আল আকসা মসজিদের ইতিকথা | মসজিদে আকসার বর্ণনা | মসজিদে সাখরা’র পরিচয় (আল আকসা-৩)

আল আকসা মসজিদের ইতিকথা শীর্ষক এই প্রবন্ধগুলো এ এন এম সিরাজুল ইসলামের লেখা “আল আকসা মসজিদের ইতিকথা” গ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে। সুন্দর তথ্যবহুল এই গ্রন্থটি বাংলাদেশ ইসলামিক সেন্টার, ঢাকা কর্তৃক প্রকাশিত।


মসজিদে আকসার বর্ণনা

মসজিদে আকসা বা মসজিদুল আকসা বা বাইতুল মুকাদ্দাস হলো জেরুজালেমের পুরনো শহরে অবস্থিত ইসলামের ৩য় পবিত্রতম মসজিদ এবং এর সাথে একই প্রাঙ্গণে কুব্বাত আসসাখরা, কুব্বাত আসসিলসিলা ও কুব্বাত আন নবী নামক স্থাপনাগুলো অবস্থিত। স্থাপনাগুলো সহ এই পুরো স্থানটিকে হারাম আল শরিফ বলা হয়। এছাড়াও স্থানটি "টেম্পল মাউন্ট" বলে পরিচত এবং ইহুদি ধর্মে পবিত্র বলে বিবেচিত হয়। ইসলামের বর্ণনা অনুযায়ী মুহাম্মদ (সাঃ) মিরাজের রাতে মসজিদুল হারাম থেকে আল-আকসা মসজিদে এসেছিলেন এবং এখান থেকে তিনি ঊর্ধ্বাকাশের দিকে যাত্রা করেন। ইতিহাসবিদ পণ্ডিত ইবনে তাহমিয়ার মতে, আসলে সুলায়মান এর তৈরি সম্পূর্ণ উপাসনার স্থানটির নামই হল মসজিদুল আল-আকসা।
মুহাদ্দিসগণ (হাদিস বিষয়ে পণ্ডিত) এই বিষয়ে একমত যে সম্পূর্ণ উপাসনার স্থানটিই ইসলামের নবী সুলাইমান (আলাইহিস সালাম) তৈরি করেছিলেন যা পরবর্তীতে ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। মুসলমানরা বিশ্বাস করে, নির্মাণের পর থেকে এটি ঈসা (আঃ) (খ্রিস্টধর্মে যিশু) সহ অনেক নবীর দ্বারা এক আল্লাহকে উপাসনার স্থান হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে এসেছে। এই স্থান মুসলিমদের প্রথম কিবলা। হিজরতের পর কুরআনের আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার কারণে কাবা নতুন কিবলা হয়। বর্তমানে "আল-আকসা" মসজিদ বলতে বোঝাায় কিবলি মসজিদ, মারওয়ানি মসজিদ ও বুরাক মসজিদ (৩টির) এর সমন্বয়  যা "হারাম আল শরীফ" এর চার দেয়াল এর মধ্যেই অবস্থিত।

মসজিদে আকসার আয়তন

পরিবেষ্টিত এলাকার দক্ষিণাংশে মসজিদে আকসার বর্তমান ভবন অবস্থিত। মসজিদে সাখরা, মসজিদে আকসা এবং অন্যান্য সেবা ভবনসহ চার দেয়ালের আল আকসা মসজিদের সম্মুখভাগ ও ভেতরের মোট জমির পরিমাণ হচ্ছে ১ লাখ ৪০ হাজার ৯শ' বর্গমিটারমসজিদে আকসা মসজিদে সাখরা থেকে ৫শ' মিটার দক্ষিণে অবিস্থত। একই সীমানার ভেতর আরো রয়েছে মসজিদে উমারজামে নিসা

মসজিদে আকসা এলাকার ইমারত সমূহ

পশ্চিম দেয়াল থেকে মসজিদে আকসার উত্তর-পশ্চিম কোণের দূরত্ব হচ্ছে প্রায় ৭০ মিটার। মসজিদের সীমানার দেয়াল থেকে উত্তর ও দক্ষিণ দিকে মসজিদে আকসার দূরত্ব সমান। মসজিদের উত্তর থেকে দক্ষিণে একটি সরল রেখা টানলে পূর্ব ও পশ্চিমে ২৮৫ মিটার সমান দূরত্ব পাওয়া যায়। উত্তর দিক থেকে মসজিদে প্রবেশ করলে সামনে একটি বিরাট বারান্দা পড়ে। সেখান থেকে মসজিদের ৭টি দরজায় যাওয়ার পথ আছে। এই ৭টি দরজা ছাড়াও মসজিদের পূর্ব ও পশ্চিম দিকে আরো ২টি দরজা আছে। মসজিদের পশ্চিম-দক্ষিণ কোণে রয়েছে মহিলাদের পৃথক প্রবেশ পথ। মসজিদে আকসার পূর্ব দিকে 'জামে উমার' নামে আরেকটি মসজিদ আছে। জেরুজালেম বিজয়ের সময় হযরত উমার (রাঃ) সেখানে যে মসজিদ তৈরি করেছিলেন বর্তমান মসজিদ তারই অবশিষ্টাংশ ।

মসজিদে আকসার স্তম্ভ

মসজিদে অনেকগুলো স্তম্ভ আছে। এগুলোতে খুবই সুন্দর নকশা অংকন করা হয়েছে। মসজিদের উত্তর-পশ্চিমে রয়েছে সুন্দর ও মনোরম নকশা খচিত মেহরাবে যাকারিয়া

মসজিদে আকসার গম্বুজ

মসজিদে আকসায় অনেকগুলো গম্বুজ আছে। সেগুলো হচ্ছে, ১. সিলসিলাহ গম্বুজ ২. সুলাইমান গম্বুজ ৩. নাহওইয়া গম্বুজ ৪. শেখ খলীল ৫. খিদির গম্বুজ ৬. মেরাজ গম্বুজ ৭. মূসা গম্বুজ ৮. ইউসূফ গম্বুজ ও ৯. মেহরাবুন্নবী গম্বুজ মসজিদে কয়েকটি মিনারা আছে। সেগুলো হচ্ছে ১. বাবুল আসবাত মিনারা ২. বাবুল মাগারেবা মিনারা বা বাবুল গাওয়ানিমা মিনারা এবং ৩. বাবুস্ সিলসিলাহ মিনারা । মসজিদের সামনের গম্বুজটি ১৭ মিটার উঁচু ও তাতে মোজাইক করা হয়েছে।

মসজিদে আকসার অজু ও পানি পানের জায়গা

মসজিদে আকসায় অজু ও পানি পান করার কয়েকটা জায়গা আছে । সেগুলোর মধ্যে সাবিল কায়েতবায়, সাবিল কাসেম পাশা, সাবিল বুদাইরী, সাবিল শালান এবং সাবিল বাবুল হাস অন্যতম ।

মসজিদে আকসার দরজার সংখ্যা

মসজিদে আকসার ১১টা দরজা আছে। সেগুলো হচ্ছে উত্তরদিকে ৭টি, পূর্বদিকে ১টি, পশ্চিমে ২টি এবং দক্ষিণে ১টি দরজা। ১৮ সেগুলোর নাম হলো : ১. বাবুল আসবাত ২. বাবুল মাগারেবা ৩. বাবুল গাওয়ানিমা ৪. বাবুস সিলসিলা ৫. বাবুল হাবস ৬. বাবুন নাযির ৭. বাবুল কাত্তান ৮. বাবে হিত্তাহ ও ৯. বাবে শারফিল আম্বিয়া বা বাবে ফয়সল ইত্যাদি ।

মসজিদে আকসায় মহিলাদের জন্য মসজিদ

মসজিদে আকসার দক্ষিণ দেয়াল খুবই মজবুত। ফলে মসজিদে আকসায় ইসরাইলীদের প্রসিদ্ধ অগ্নিকাণ্ডে এ দেয়ালের কোন ক্ষতি হয়নি। দক্ষিণ দিকে জামে আন্ নিসা নামে মহিলাদের জন্য একটি মসজিদ আছে।

মসজিদে আকসার পুনঃনির্মাণ ও নির্মাণশৈলী

উমাইয়া খলীফাহ আবদুল মালেক বিন মারওয়ান প্রথমে মসজিদে সাখরার সংস্কার ও পুনঃনির্মাণ করেন। তিনি মসজিদে আকসার নির্মাণ কাজ শুরু করলেও তা শেষ করতে পারেননি। ৭২ হিঃ মোতাবেক ৬৯০ খৃঃ তাঁর ছেলে ওয়ালিদ বিন আবদুল মালেক মসজিদে আকসা নির্মাণের কাজ সমাপ্ত করেন । মসজিদে আকসার দৈর্ঘ্য ৮০ মিটার ও প্রস্থ ৫৫ মিটার। এতে মারবেল পাথরের তৈরি মোট ৫৩টি স্তম্ভ আছে এবং পাথরের তৈরি ৪৯টি বর্গাকৃতির খুঁটি আছে। স্তম্ভ ও খুঁটিগুলোর উচ্চতা হচ্ছে ৫ মিটার। এগুলোর উপর ৯ মিটার চওড়া পাথরের ধনুক নির্মাণ করা হয়েছে এবং এর উপর নির্মিত হয়েছে ছাদ । স্তম্ভগুলোকে তামার তৈরি পাত দ্বারা মোড়ানো হয়েছে। মসজিদের মাঝামাঝি স্থানে রয়েছে বিরাট গম্বুজ। শিশা দ্বারা গম্বুজের চারদিক ঢালাই করা হয়েছে। মসজিদের সামনের গম্বুজটি ১৭ মিটার উঁচু ও তাতে মোজাইক করা হয়েছে। এতে বহু কারুকার্য করা হয়েছে।

মসজিদে কিবলার দিকে মিম্বার নূরুদ্দিনমেহরাব সালাহউদ্দিন অবস্থিত। মসজিদে একটা বড় মেহরাব আছে যা মিম্বার থেকে পূর্বদিকে অবস্থিত। এর নামকরণ করা হয়েছে মেহরাবে দাউদ। তারপর লোকেরা এর নামকরণ করেছে মেহরাবে উমার। মসজিদের শুরুতে মিম্বার থেকে পশ্চিমে আরেকটি মেহবার আছে । একে মেহরাবে মুআওইয়াহ বলা হয় ।

মসজিদে আকসার ভবন পূর্ব সীমানার দেয়াল পর্যন্ত পৌঁছেনি। কেননা, হযরত উমার (রা) লোকদেরকে পশ্চিম সীমানায় মসজিদ ভবন নির্মাণের নির্দেশ দেয়ায় তখন থেকে পূর্বাংশ খালি পড়ে আছে ।

মসজিদে আকসা ভিত্তিক শিক্ষা ও সেবা ব্যবস্থা

মসজিদে আকসার সীমানার ভেতর কয়েকটি মাদ্রাসা তৈরি হয়েছে। সেগুলো হল, মাদ্রাসা নাহওইয়া, মাদ্রাসা নাসরিয়া ও মাদ্রাসা ফারেসিয়া। মসজিদে আকসা ইসলামী জ্ঞান ও সংস্কৃতির কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে। এতে তাফসীর, হাদীস, ফিকহসহ বিভিন্ন বিষয়ের শিক্ষা দান করা হয়।

অনেক দিন পর্যন্ত মসজিদে আকসায় ৪ মাজহাবের ৪ জন ইমামের মাধ্যমে নামাযের ব্যবস্থা আঞ্জাম দেয়া হতো। এর ফলে তা বিরাট ইসলামী শিক্ষার ক্ষেত্রে পরিণত হয়। পরবর্তীতে মাজহাব-ভিত্তিক ইমামতির পদ্ধতি বাতিল করা হয়। মসজিদে আকসার চারপাশে অনেকগুলো 'গরীব বোর্ডিং' আছে। যেয়ারতকারী গরীব মুসলমানদের জন্য বিভিন্ন দানশীল ব্যক্তি বা সংস্থা তা কায়েম করেছেন ।

মসজিদে আকসার পশ্চিম দেয়াল বা 'বোরাক শরীফ'

মসজিদে আকসার পশ্চিম দেয়ালকে 'বোরাক শরীফ' বলা হয়। এতে রাসূলুল্লাহর (সাঃ) বোরাক বাঁধা হয়েছিল। ইহুদীরা এটাকে 'আল-হায়েত আল- মাবকী' বলে। এই দেয়ালটি বিরাট পাথর দ্বারা নির্মিত। এর দৈর্ঘ্য হচ্ছে ১৫৬ ফুট এবং উচ্চতা ৬৫ ফুট। ইহুদীদের দাবী হচ্ছে, এটি হাইকালে সুলাইমানীর অবশিষ্টাংশ। কিন্তু বর্তমানে তা মসজিদের আঙিনার অংশ ও মসজিদের ওয়াকফ বিভাগের মালিকানাধীন।

মসজিদে আকসার সংস্কার কাজ

মসজিদে আকসার দরজাগুলোতে অতি বেশী নকশা ও সুন্দর ডিজাইন করা হয়েছে। ১৯২২ খৃঃ মসজিদে আকসা সংস্কার সংক্রান্ত সর্বোচ্চ ফিলিস্তিনী কমিটি মসজিদের প্রয়োজনীয় সংস্কার ও মেরামতের জন্য মিসর ও তুরস্কের প্রকৌশলীদেরকে আহ্বান করে। কমিটি অনুসন্ধান চালিয়ে দেখে, মসজিদের বিভিন্ন খুঁটি ও স্তম্ভগুলোতে ফাটল ধরেছে এবং এগুলোর পক্ষে আর মসজিদের ছাদ বহন করা সম্ভব নয়। তারা মসজিদের নকশা ও ডিজাইন বহাল রেখে মেরামতের কাজ শেষ করেন। ১৯২৭ খৃঃ মোতাবেক ১৩৪৬ হিঃ মসজিদে আকসার গম্বুজ সংস্কার করা হয়। একই বছর ভূমিকম্পে মসজিদের পূর্ব ও পশ্চিম দিকে ফাটল ধরে। ১৯৩৮ খৃঃ উক্ত ফাটল মেরামত করা হয়। বিভিন্ন সংস্কারের সময় মসজিদে আকসার নকশা ও কারুকার্য অক্ষুণ্ণ রাখা হয়। এটি পৃথিবীর একটি সুন্দর স্থাপত্য কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত ।

মসজিদে সাখরা’র পরিচয়

উমাইয়া খলীফাহ আবদুল মালেক বিন মারওয়ান ৭০ হিরজী মোতাবেক ৬৯১ খৃঃ মসজিদে সাখরা নির্মাণ করেন। ঐতিহাসিকরা এ বিষয়ে একমত যে, ভূপৃষ্ঠে এটিই হচ্ছে সবচাইতে বেশী সুন্দর ইমারত। আবার কেউ কেউ বলেছেন, এটি হচ্ছে মুসলিম বিশ্বের সর্বোৎকৃষ্ট ও সুন্দর স্থাপত্য নিদর্শন । ‘সাখরা' শব্দের অর্থ হচ্ছে পাথর। এই পাথরের রয়েছে তাৎপর্যপূর্ণ ইতিহাস। বর্ণিত আছে, হযরত আদম (আঃ) সর্বপ্রথম এই পাথরের কাছে নামায পড়েছেন। হযরত ইবরাহীম (আঃ) এর কাছে নিজ ইবাদতগাহ নির্মাণ করেছেন। এই পাথরের উপর আগুনের স্তম্ভ দেখে হযরত ইয়াকুব (আঃ) সেখানে একটা মসজিদ নির্মাণ করেন। হযরত ইউশা (আঃ) এর উপর একটা গম্বুজ নির্মাণ করেন। তাকে ‘কুববাতুজ জামান' বলা হয়। হযরত মূসা (আঃ) তীহ্ ময়দানে ওহী লাভের উদ্দেশ্যে বৈঠকের জন্য যে তাঁবু নির্মাণ করেছিলেন, পরবর্তীতে তাকে এই পাথরের কাছে স্থাপন করা হয়। এটাই সেই পাথর, যার কাছে হযরত দাউদ (আঃ) নিজ মেহরাব তৈরি করেছিলেন এবং এর কাছেই হযরত সুলাইমান (আঃ) প্রসিদ্ধ ইবাদতগাহ ‘হাইকালে সুলাইমানী' নিৰ্মাণ করেছিলেন। এটাই সেই পাথর, যার উপর থেকে নবী করীম (সাঃ) মে'রাজের রাত্রে আসমানে উঠেছিলেন। 

এই মসজিদে বর্তমানে জামাত সহকারে নামায হয় না। পৃথকভাবে লোকেরা তাতে নামায পড়ে। শুধু মসজিদে আকসাতেই জামাতে নামায হয়।

মসজিদে সাখরার ইমারত

মসজিদে সাখরার ইমারতটি ৮ কোণ বিশিষ্ট। এক কোণ থেকে আরেক কোণের দৈর্ঘ্য গড়ে ২০.৫৯ মিটার। উত্তর থেকে দক্ষিণে প্রতি বাহুর দৈর্ঘ্য হচ্ছে যথাক্রমে ২০.৬৯, ২০.৪২, ২০.৭৮, ২০.৬০, 20.৯৬, ২০.৩৩, ২০.৭৪ ও ২০.৭২ মিটার এবং উচ্চতা হচ্ছে ৯.৫ মিটার। প্রত্যেক দেয়ালের সাখরা বা পাথর। মে'রাজে যাবার সময় রাসূলুল্লাহ (সা) এর ওপর বসেছিলেন ।

মসজিদে সাখরার দেয়াল ও জানালা

উপরিভাগে জানালা রয়েছে। জানালার সংখ্যা ৫৬। এর মধ্যে ৪০টা জানালা দিয়ে ভেতরে আলো প্রবেশ করতে পারে। দেয়ালের বাইরের অংশে যে মোজাইক ছিল ১৫৪৫ খৃঃ তুর্কী সুলতান সুলাইমান কানুনী তা টাইলস দ্বারা পরিবর্তন করেন। ভেতর থেকে মসজিদের দেয়ালের উচ্চতা ৪ মিটার এবং দেয়ালের সকল অংশে মার্বেল পাথর লাগানো হয়েছে।

মসজিদে সাখরার গম্বুজ

মসজিদে রয়েছে একটি বড় ও সুন্দর গোলাকৃতির গম্বুজ। মাটি থেকে ৭ গজ উঁচুতে নির্মিত গম্বুজের উচ্চতা হচ্ছে ১০৫ ফুট ও আয়তন ২০.৪৪ মিটার। গম্বুজে কাঠের তৈরি ২টা স্তর আছে। বাইরের স্তরটি শিশার পাতের তৈরি এবং তা বাইরে থেকে দেখা যায়। ভেতরের স্তরটি মসজিদের ভেতর থেকে দেখা যায়। তাতে সোনা মিশ্রিত পানি দিয়ে কুফী অক্ষরে নীল ভিটির উপর বিভিন্ন আয়াত লেখা আছে।

সাখরা পাথরের বর্ণনা

সাখরা পাথরটি গম্বুজের মাঝামাঝি অবস্থিত। উত্তর থেকে দক্ষিণে পাথরের দৈর্ঘ্য হচ্ছে ১৭.৭০ মিটার এবং পূর্ব-পশ্চিমে এর প্রশস্ততা হচ্ছে ১৩.৫০ মিটার। মাটি থেকে এর উচ্চতা হচ্ছে ১.২ মিটার। পাথরের চারপাশে রয়েছে নকশা করা কাঠের রেলিং। এই পাথরের উপর মসজিদ তৈরির উদ্দেশ্য হল, এটাকে রোদ-বৃষ্টি সহ বিভিন্ন ক্ষতিকর জিনিস থেকে হেফাজত করা। সেজন্য এর উপর মজবুত ইমারত তৈরি করা হয়েছে । রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেন :

صَلَيْتُ لَيْلَةً أسرى بي إلى بَيْتِ الْمَقْدِسِ يَمِيْنَ الصَّخْرَةِ

অর্থ : ‘আমি মে'রাজের রাতে বাইতুল মাকদিসে পাথরটির ডানে নামায পড়েছি।' আরেক হাদীসে এসেছে :

صَخْرَةُ بَيْتِ الْمَقْدِسِ مِنْ صُحُورِ الْجَنَّةِ

অর্থ : ‘বাইতুল মাকদিসের পাথরটি বেহেশতের পাথর।'

পাথরের নীচে রয়েছে একটা গুহা। গুহার উপরে পাথরটিকে আসমান ও যমীনের শূন্যস্থানে ঝুলন্ত বলে মনে হয়। ভেতরের গুহাটি প্রায় ৪ সমকোণ বিশিষ্ট চতুর্ভূজ আয়তাকার, যার আয়তন হচ্ছে ৭×৫ মিটার সামনের দিকে থেকে নীচে যাওয়ার জন্য তাতে সিঁড়ির ১৪টি স্তর আছে। নীচের ৩টি সিঁড়িকে সেমি গোলাকার মনে হয়। পক্ষান্তরে, পাথরের ছাদের উচ্চতা হচ্ছে ৩ মিটার এবং ছাদে রয়েছে ৭০ X ৮০ সেন্টিমিটার বিশিষ্ট একটি ছিদ্র। সিঁড়ির বাঁয়ে গর্তের বাম কোণকে ‘রোকনে দাউদ' এবং উল্টো দিকের অর্থাৎ বিপরীত কোণকে বলা হয় ‘রোকনে ইলিয়াস'। সিঁড়ির সাথে লাগা কোণের বিপরীতে মাটির স্তর থেকে সমান্য উঁচু এক স্তর বিশিষ্ট মিম্বারকে বলা হয় 'রোকনে ইবরাহীম'। রোকনে ইবরাহীমের মিম্বারের সামনেই হল ঐ স্তরটি। নীচে যাওয়ার সিঁড়ির ডানে ৪ সমকোণ বিশিষ্ট আয়তাকারের একটি মেহরাব আছে। এটাকে 'মেহরাবে সুলাইমান' বলা হয়। অনুরূভাবে, ভেতরে আরেকটি মেহরাবকে 'মেহরাবে খিদির'ও বলা হয় ।

প্রাক-ইসলাম যুগে, লোকেরা পাথরের উপরের ছিদ্র দিয়ে গুহার ভেতর কোরবানীর রক্ত প্রবাহিত করত। ঐতিহাসিকরা উল্লেখ করেছেন, মসজিদে সাখরার জন্য খলীফা আবদুল মালেক মিসরের ৭ বছরের যে খাজনার আয় বরাদ্দ করেছিলেন, সেখান থেকে ১ লাখ দীনার উদ্বৃত্ত থেকে যায়। পরে আবদুল মালেক ঐ উদ্বৃত্ত অর্থ মসজিদে সাখরার তদারককারী ২ জন প্রকৌশলীকে দিতে চান। তারা হলেন, ফিলিস্তিনের রাজা হায়াত কানদী এবং জেরুজালেমের ইয়াযিদ বিন সালাম। কিন্তু তারা ঐ অর্থ গ্রহণে অস্বীকৃতি জানিয়ে বলেন, আমাদের সম্পদ থেকেই এই মসজিদ নির্মাণ করা উচিত। তখন আবদুল মালেক এই অর্থ দিয়ে সোনা কিনে তা মসজিদের গম্বুজ ও দরজায় লাগিয়ে দেন ।

তথ্যসূত্রঃ
১৮. রেসালাতুল মাসজিদ ফিল ইসলাম, ডঃ আবদুল আযীয মুহাম্মদ আল লোমাইলাম, প্রকাশকাল ১৯৭৮, রিয়াদ, সৌদী আরব।

>>> Welcome, You are now on Mohammadia Foundation's Website. Please stay & Tune with us>>>

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

মোহাম্মদীয়া ফাউন্ডেশনের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url