প্রাত্যহিক জীবনে “আল্লাহ’র স্মরণ” || নামাজের পর জিকির ও দুআ’র আমলসমূহ







(শাইখুল ইসলাম মুহিউদ্দীন আবু যাকারিয়া ইয়াহইয়া ইবনে শারফ আন-নববী রহ. রচিত “আল আযকার” গ্রন্থ অবলম্বনে)

নামাজের পর জিকির ও দুআ


উলামায়ে কেরামের মতে নামাজের পর জিকির মুস্তাহাব। এ ব্যাপারে নানান বিষয়ে অনেক সহিহ হাদিস রয়েছে। নিম্নে এ সম্পর্কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ হাদিস উল্লেখ করা হল-

*  হজরত আবু উমামা রাদি. থেকে বর্ণিত-

قِيلَ : يَا رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أَيُّ الدُّعَاءِ أَسْمَعُ؟ قَالَ: جَوْفَ اللَّيْلِ الْآخِرَ، وَدُبُرَ الصَّلَوَاتِ الْمَكْتُوبَاتِ.

অর্থ: রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাস করা হল, ইয়া রাসুলাল্লাহ, কোন সময় দুআ বেশি কবুল হয়? উত্তরে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, শেষ রাতের দুআ ও ফরজ নামাজ সমাপ্ত করার পরের দুআ।- তিরমিজি রহ. বলেন, হাদিসটি হাসান। ০১

*  হজরত ইবনে আব্বাস রাদি. থেকে বর্ণিত-

كُنتُ أَعْرِفُ انْقِضَاءَ صَلَاةِ رَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِالتَّكْبِيرِ.

অর্থ: আমি তাকবিরের মাধ্যমে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নামাজ শেষ হয়েছে বুঝতে পারতাম ।

হজরত ইবনে আব্বাস রাদি. থেকে বর্ণিত আছে-

أَنَّ رَفْعَ الصَّوْتِ لِلذِّكْرِ حِيْنَ يَنْصَرِفُ النَّاسُ مِنَ الْمَكْتُوْبَةِ كَانَ ذَلِكَ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ. وَأَنَّ ابْنَ عَبَّاسٍ قَالَ : كُنْتُ أَعْلَمُ إِذَا انْصَرَفُوْا بِذَالِكَ وَأَسْمَعُهُ.

অর্থ: রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে ফরজ নামাজের পর লোকেরা উঁচু আওয়াজে তাকবির ধ্বনি দিতো। অন্য বর্ণনায় আছে— ইবনে আব্বাস রাদি. বলেন, তাকবির ধ্বনির আওয়াজ শোনে আমি বোঝতে পারতাম যে, তাদের নামাজ শেষ হয়েছে। ০২

*  হজরত সাওবান রাদি. -এর সূত্রে বর্ণিত আছে। তিনি বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন নামাজ শেষ করতেন, তখন তিনবার ইস্তিগফার করতেন। এরপর নিম্নোক্ত দুআটি পড়তেন-

اللَّهُمَّ أَنْتَ السَّلَامُ وَمِنْكَ السَّلَامُ ، تَبَارَكْتَ يَا ذَا الْجَلَالِ وَالْإِكْرَامِ.

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা আনতাস সালামু ওয়া মিনকাস সালামু, তাবারাকতা ইয়া যালজালালি ওয়াল ইকরাম ।

অর্থ: হে আল্লাহ, আপনি দোষ-ত্রুটি থেকে চির মুক্ত, নিরাপত্তার মালিক। আপনার কাছ থেকেই আসে নিরাপত্তা। আপনি মহিমাময়, প্রতাপ ও অনুগ্রহের অধিকারী।

এই হাদিসের একজন বর্ণনাকারী ইমাম আওযাঈ রাহিমাহুল্লাহুকে জিজ্ঞাসা করলেন- কীভাবে তিনি ইস্তিগফার করতেন? তিনি বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেন-

উচ্চারণ: আসতাগফিরুল্লাহ, আসতাগফিরুল্লাহ ।

أَسْتَغْفِرُ اللَّهِ، أَسْتَغْفِرُ اللَّهِ.

অর্থ: আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি, আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি । ০৩

*  হজরত মুগিরা বিন শুবা রাদি থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন নামাজ শেষ করতেন তখন নিম্নোক্ত দুআ পড়তেন-

لا إله إلا اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ، اللَّهُمَّ لَا مَانِعَ لِمَا أَعْطَيْتَ، وَلَا مُعْطِيَ لِمَا مَنَعْتَ، وَلَا يَنْفَعُ ذَا الْجُدَّ مِنْكَ الْجُدُ.

উচ্চারণ: লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা-শারিকালাহ, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইয়ন কাদির। আল্লাহুম্মা লা মানিআ লিমা আতাইতা ওয়া লা মুতিয়া লিমা মানাতা, ওয়া লা ইয়ানফাউ জাল জাদ্দি মিনকাল জাদ্দু ।

অর্থ: আল্লাহ তাআলা ছাড়া কোন ইলাহ নেই, তার কোন অংশীদার নেই। সকল আধিপত্য তারই, তারই সকল প্রশংসা। তিনি সর্ববিষয়ে ক্ষমতাবান । কেউ আপনার দান রোধ করতে পারে না এবং আপনি বন্ধ করলে কেউ তা দিতে পারে না। আমল ছাড়া সামর্থ্যবানের সামর্থ্য কোন কাজে আসবে না। ০৪

*  হজরত আবদুল্লাহ বিন যুবাইর রাদি. থেকে বর্ণিত, তিনি প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর নিম্নোক্ত দুআ পড়তেন। আর বলতেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতি নামাজের পর এগুলো পড়তেন। দুআটি এই-

لا إلهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لا شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرُ، لا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللهِ، لا إلهَ إِلَّا اللهُ وَلَا نَعْبُدُ إِلَّا إِيَّاهُ لَهُ النِّعْمَةُ وَلَهُ الْفَضْلُ، وَلَهُ التَّنَاءُ الْحَسَنُ، لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ مُخْلِصِينَ لَهُ الدِّينَ وَلَوْ كَرِهَ الْكَافِرُوْنَ.

উচ্চারণ: লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা-শারিকালাহ, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইয়ন কাদির। লা হাউলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লাবিল্লাহিল আযিযিল হাকিম। লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ। ওয়ালা নাবুদু ইল্লা ইয়াহু, লাহুন্নিমাতু ওয়া লাহুল ফাদলু, ওয়া লাহুস সানাউল হাসান। লা ইলাহা ইল্লাহু মুখলিসিনা লাহুদ্দিন, ওয়া লাউ কারিহাল কাফিরুন। 

অর্থ: আল্লাহ তাআলা ছাড়া কোন ইলাহ নেই, তার কোন অংশীদার নেই। সকল আধিপত্য তারই, তারই সকল প্রশংসা। তিনি সর্ববিষয়ে ক্ষমতাবান । প্রজ্ঞাময় পরাক্রমশালী আল্লাহ ছাড়া আর কারো কোন ক্ষমতা ও শক্তি নেই । একমাত্র আল্লাহ তাআলা ছাড়া আর কোন সত্য মাবুদ নেই, আমরা তাকে ছেড়ে কারো উপাসনাও করি না। সব নেয়ামত তার, সকল অনুগ্রহ তার এবং সুপ্রশংসাও কেবল তার। একমাত্র আল্লাহ তাআলা ছাড়া আর কোন সত্য মাবুদ নেই। আমরা খাঁটি অন্তরে তা স্বীকার করি, কাফেররা যতই একে খারাপ মনে করুক । ০৫

* হযরত আবু হুরায়রা রাদি: হতে বর্ণিতঃ 

أَنَّ فُقَرَاءَ الْمُهَاجِرِيْنَ أَتَوْا رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالُوا: ذَهَبَ أَهْلُ الدُّثوْرِ بِالدَّرَجَاتِ الْعُلَا وَالنَّعِيمِ الْمُقِيمِ، فَقَالَ: وَمَا ذَاكَ؟ قَالُوا :يُصَلُّوْنَ كَمَا نُصَلِّي، وَيَصُوْمُوْنَ كَمَا نَصُوْمُ، وَيَتَصَدَّقُونَ وَلَا نَتَصَدَّقُ، وَيُعْتِقُوْنَ وَلَا نُعْتِقُ، فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: أَفَلَا أُعَلِّمُكُمْ شَيْئًا تُدْرِكُوْنَ بِهِ مَنْ سَبَقَكُمْ، وَتَسْبِقُوْنَ بِهِ مَنْ بَعْدَكُمْ، وَلَا يَكُوْنُ أَحَدٌ أَفْضَلَ مِنْكُمْ إِلَّا مَنْ صَنَعَ مِثْلَ مَا صَنَعْتُمْ؟ قَالُوْا بَلَى يَا رَسُولَ اللَّهِ. قَالَ: تُسَبِّحُوْنَ، وَتُكَبِّرُوْنَ، وَتَحْمَدُونَ دُبُرَ كُلِّ صَلَاةٍ ثَلَاثًا وَثَلَاثِيْنَ.

অর্থ: তিনি বলেন, দরিদ্র মুহাজিরগণ রাসুলের কাছে এসে বললেন, ধনী সাহাবায়ে কেরাম উঁচু মর্যাদা, স্থায়ী নেয়ামত লাভ করছেন- আমরা যেমন নামাজ পড়ি, তারাও নামাজ পড়ে। আমরা যেমন রোজা রাখি, তারাও রোজা রাখে। তবে তাদের রয়েছে অতিরিক্ত ধন-সম্পদ যা দ্বারা তারা হজ্ব, উমরা করে, জিহাদে অংশ নেয় এবং দান করে (এগুলো দিয়ে তারা আমাদের থেকে এগিয়ে যাচ্ছে)। তখন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমি কি তোমাদেরকে এমন আমল বলে দেব যদ্দারা তোমরা তোমাদের অগ্রবর্তীদের সমান হতে পারবে এবং যারা তোমাদের পরে আছে তাদের থেকে এগিয়ে যেতে পারবে। তোমাদের থেকে উত্তম আর কেউ হতে পারবে না। তবে হ্যাঁ, তারা হতে পারবে যারা এই আমল করবে। সাহাবায়ে কেরাম বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! অবশ্যই বলুন। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা প্রত্যেক ফরজ নামাজান্তে ৩৩ বার করে সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ এবং আল্লাহু আকবার বলবে।০৬

*  হজরত কাব বিন উজরা থেকে বর্ণিত। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-

مُعْقِبَاتُ لَا يَخِيبُ قَائِلُهُنَّ - أَوْ فَاعِلُهُنَّ - دُبُرَ كُلِّ صَلَاةٍ مَكْتُوبَةٍ : ثَلَاثُ وَثَلَاثُوْنَ تَسْبِيْحَةً، وَثَلَاثُ وَثَلَاثُوْنَ تَحْمِيْدَةً، وَأَرْبَعُ وَثَلَاثُوْنَ تَكْبِيرَةً.

অর্থ: ফরজ নামাজের শেষে তাসবিহ পাঠকারী ব্যক্তি নিষ্ফল হয় না। আর তা হল, ৩৩ বার সুবহানাল্লাহ, ৩৩ বার আলহামদুলিল্লাহ্ এবং ৩৪ বার আল্লাহু আকবার পড়া ।০৭

*  হজরত আবু হুরায়রা রাদি. থেকে বর্ণিত, তিনি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন-

مَنْ سَبَّحَ الله في دُبُرِ كلِّ صَلَاةٍ ثَلَائًا وَثَلَاثِينَ ، وحَمِدَ اللَّهَ ثَلَاثًا وَثَلَاثِينَ، وَكَبَّرَ اللهَ ثَلَاثًا وَثَلَاثِينَ، وَقَالَ تَمَامَ الْمِائَةِ: لا إلهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ ولهُ الحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٍ، غُفِرَتْ خَطَايَاهُ وَإِنْ كَانَتْ مِثْلَ زَبَدِ الْبَحْرِ.

অর্থ: যে ব্যক্তি প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর ৩৩ বার সুবহানাল্লাহ, ৩৩ বার আলহামদুলিল্লাহ ৩৩ বার আল্লাহু আকবার বলে এবং একশত বার পূর্ণ হওয়ার পর নিম্নোক্ত দুআ পড়ে, তার সকল গুনাহ মাফ করে দেয়া হয় যদিও তার গুনাহ সমুদ্রের ফেনা পরিমাণ হয়। দুআটি এই-

لا إلهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيْرٍ

উচ্চারণ : লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়হদাহু লা-শারিকালাহু লাহুল মুলকু ওয়ালাহুল হামদু ওয়াহুয়া আলা কুল্লি শাইন কাদির ।

অর্থ: আল্লাহ তাআলা ছাড়া কোন ইলাহ নেই, তার কোন অংশীদার নেই। সকল আধিপত্য তারই, তারই সকল প্রশংসা। তিনি সর্ববিষয়ে ক্ষমতাবান । ০৮

*  হজরত সাদ বিন আবি ওয়াক্কাস রাদি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতি ফরজ নামাজের পর নিম্নোক্ত দুআ পড়তেন-

اللهُمَّ إِنِّي أَعُوْذُ بِكَ مِنَ الْجُبْنِ، وَأَعُوْذُ بِكَ أنْ أُرَدَّ إِلَى أَرْذَلِ الْعُمَرِ، وَأَعُوْذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِ الدُّنْيَا وَأَعُوْذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ.

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিনাল যুবনি, ওয়া আউজুবিকা আন উরাদ্দা ইলা আরজালিল উমুরি, ওয়া আউজুবিকা মিন ফিতনাতিদ্দুনয়া ওয়া আউজুবিকা মিন আজাবিল কাবর ।

অর্থ: হে আল্লাহ, আমি কাপুরুষতা থেকে পানাহ চাই। একদম বার্ধক্যে উপনীত হওয়া থেকে পানাহ চাই। দুনিয়ার ফিতনা থেকে আশ্রয় চাই। কবরের আজাব থেকে আশ্রয় চাই । ০৯

*  হজরত আবদুল্লাহ বিন উমর রাদি. এর সূত্রে বর্ণিত আছে। তিনি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-

خَصْلَتَانِ - أَوْ خَلَّتَانِ - لَا يُحَافِظُ عَلَيْهِمَا عَبْدُ مُسْلِمٌ إِلَّا دَخَلَ الْجَنَّةَ، هُمَا يَسِيرُ، وَمَنْ يَعْمَلُ بِهِمَا قَلِيْلُ ؛ يُسَبِّحُ فِي دُبُرِ كُلِّ صَلَاةٍ عَشْرًا، وَيَحْمَدُ عَشْرًا، وَيُكَبِّرُ عَشْرًا، فَذَالِكَ خَمْسُونَ وَمِائَهُ بِاللَّسَانِ، وَأَلْفُ وَخَمْسُمِائَةٍ فِي الْمِيزَانِ. وَيُكَبِّرُ أَرْبَعًا وَثَلَاثِيْنَ إِذَا أَخَذَ مَضْجَعَهُ، وَيَحْمَدُ ثَلَاثًا وَثَلَاثِيْنَ، وَيُسَبِّحُ ثَلَاثًا وَثَلاثِينَ، فَذَالِكَ مِائَةُ بِاللَّسَانِ وَأَلْفُ فِي الْمِيزَانِ. فَلَقَدْ رَأَيْتُ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَعْقِدُهَا بِيَدِهِ، قَالُوا: يَا رَسُوْلَ اللهِ، كَيْفَ هُمَا يَسِيرُ وَمَنْ يَعْمَلُ بِهِمَا قَلِيْلُ؟ قَالَ: يَأْتِي أَحَدَكُمْ يَعْنِي الشَّيْطَانَ - فِي مَنَامِهِ فَيُنَوِّمُهُ قَبْلَ أَنْ يَقُوْلَهُ، وَيَأْتِيْهِ فِي صَلَاتِهِ فَيُذَكِّرُهُ حَاجَةٌ قَبْلَ أَنْ يَقُوْلَهَا.

অর্থ: কোন মুসলমান ব্যক্তি দুটি আমলের প্রতি যত্নবান হলে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। আমল দুটি অতি সহজ এবং এর ওপর আমলকারী খুবই কম। ১ম আমল হল, প্রতি ফরজ নামাজের পর ১০বার সুবহানাল্লাহ পড়া, ১০বার আলহামদুলিল্লাহ পড়া এবং ১০ আল্লাহু আকবার বলা। পাঁচ ওয়াক্ত মিলে ১৫০ বার হয়, যা যবানে ১৫০ বার হলেও মিযানে হয় এক হাজার পাঁচশত বার। ২য় আমল হল, ঘুমানোর সময় ৩৩ বার সুবহানাল্লাহ, ৩৩ বার আলহামদুলিল্লাহ এবং ৩৩ বার আল্লাহু আকবার। যবানে যদিও ১০০ শত হয়, কিন্তু দাড়িপাল্লায় তা এক হাজার পরিমাণ সওয়াব।

ইবনে উমর রাদি. বলেন, আমি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে হাতে গণনা করে পড়তে দেখেছি। সাহাবায়ে কেরাম বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ, কীভাবে এটি সহজ কিন্তু আমলকারী কম? রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ঘুমানোর সময় শয়তান তোমাদের কাছে আসে, আর এই তাসবিহগুলো পড়ার পূর্বেই ঘুম পাড়িয়ে দেয়। আবার নামাজের পর এসে তোমাদের বিভিন্ন হাজতের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়, ফলে এগুলো পড়া হয় না । ১০

*  হজরত উকবা বিন আমের রাদি. থেকে বর্ণিত-

أَمَرَنِي رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ أَقْرَأَ بِالْمُعَوَّذَتَيْنِ فِي دُبُرِ كُلَّ صَلَاةٍ.

অর্থ: তিনি বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে প্রত্যেক, ১১ – সুনানে ফরজ নামাজের পর সুরা ফালাক ও সুরা নাস পড়তে বলেছেন আবু দাউদের এক বর্ণনায় (আল-মুআউয়িজাত) শব্দটি এসেছে, তাই উক্ত দুটিসহ সুরা এখলাসও পড়া চাই ।

*  হজরত মুআজ রাদি. থেকে বর্ণিত। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর হাত ধরে বললেন, হে মুয়াজ! আল্লাহর কসম, আমি তোমাকে মহব্বত করি। হে মুয়াজ! আমি তোমাকে ওসিয়ত করছি, প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর নিম্নোক্ত দুআ পড়তে ভুলবেন না-

اللَّهُمَّ أَعِنِّي عَلَى ذِكْرِكَ وَشُكْرِكَ وَحُسْنِ عِبَادَتِكَ.

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা আইন্নি আলা যিকরিকা ওয়া শোকরিকা ওয়া হুসনি ইবাদাতিক।

অর্থ: হে আল্লাহ, আমি জিকির, শোকর ও সুন্দর ইবাদতের ব্যাপারে আপনার সাহায্য চাই। ১২

*  হজরত আনাস রাদি. থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামাজ শেষ করে ডান হাত দিয়ে মুখমণ্ডল মুছতেন, এরপর নিম্নোক্ত দুআ পড়তেন-

أَشْهَدُ أَن لَّا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ الرَّحْمَنُ الرَّحِيمُ، اللَّهُمَّ أَذْهِبْ عَنِّي الْهَمَّ وَالْحَزَنِ.

উচ্চারণ: আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহুর রাহমানির রাহিম। আল্লাহুম্মা আজহিব আনিল হাম্মা ওয়াল হাযান ।

অর্থ: আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোন মাবুদ নেই। তিনি অতি দয়ালু পরম করুণাময়। হে আল্লাহ, আমার টেনশন ও চিন্তা দূর করে দাও । ১৩

*  হজরত আবু উমামা রাদি. থেকে বর্ণিত, আমি ফরজ ও নফল নামাজে যখনই রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকটবর্তী হতাম, তাঁকে নিম্নোক্ত দুআ পড়তে শুনতাম-

اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي ذُنُوبِي وَخَطَايَايَ كُلِّهَا، اَللَّهُمَّ انْعِشْنِيْ وَاجْبُرْنِي، وَاهْدِنِي لِصَالِحَ الْأَعْمَالِ وَالْأَخْلَاقِ، إِنَّهُ لا يَهْدِي لِصَالِحِهَا وَلَا يَصْرِفُ سَيِّئَهَا إِلَّا أَنْتَ.

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মাগফিরলি জুনুবি ওয়া খাতায়াইয়া কুল্লাহা, আল্লাহুম্মান আশনি ওয়ায বুরনি ওয়াহ দিনি লি সালিহিল আমালি ওয়াল আখলাক, ইন্নাহু লা ইয়াহদি লি সালিহিহা ওয়া ইয়াসরিফু সাইয়িহিহা ইল্লা আনতা ।

অর্থ: হে আল্লাহ, আমার সকল পাপ মার্জনা করে দাও। আমাকে তাওফিক দাও, সাহায্য করো। আমাকে সচ্চরিত্র ও নেক আমলের প্রতি পথনির্দেশ করো। তুমি ব্যতীত অন্য কেউ নেক আমল করার ও বদ আমল থেকে বেঁচে থাকার হেদায়েত করতে পারে না। ১৪

*  হজরত আবু সাঈদ খুদরি রাদি. হতে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন নামাজ থেকে ফারেগ হতেন তখন এই দুআটি পড়তেন। বর্ণনাকারী বলেন, এই দুআ সালামের আগে বলতেন নাকি পরে বলতেন আমার স্মরণ নেই। দুআটি এরকম-

سُبْحَانَ رَبِّكَ رَبِّ الْعِزَّةِ عَمَّا يَصِفُوْنَ، وَسَلَامٌ عَلى الْمُرْسَلِينَ، وَالْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ.

উচ্চারণ: সুবহানা রাব্বিকা রাব্বিল ইজ্জাতি আম্মা ইয়াসিফুন, ওয়া সালামুন আলাল মুসরালিন, ওয়াল হামদু লিল্লাহি রাব্বিল আলামিন ।

অর্থ: পবিত্র আপনার পরওয়ারদিগারের সত্তা, তারা যা বর্ণনা করে তিনি তা থেকে সম্মানিত ও পবিত্র। নবিদের প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক। সমস্ত প্রশংসা বিশ্বপালক আল্লাহর নিমিত্ত । ১৫

*  হজরত আনাস রাদি. থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামাজ শেষ করে নিম্নোক্ত দুআ পড়তেন-

اللهُمَّ اجْعَلْ خَيْرَ عُمُرِي آخِرَهُ، وَخَيْرَ عَمَلِي خَوَاتِمَهُ، وَاجْعَلْ خَيْرَ أَيَّامِي يَوْمَ أَلْقَاكَ.

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মাজ আল খায়রা উমরি আখেরাহ, ওয়া খাইরা আমালি খাওয়াতিমা, ওয়াজ আল খাইরা আইয়্যামি ইয়াওমা উলকাক ।

অর্থ: হে আল্লাহ, আমার শেষ জীবনকে ভালো করো, শেষ আমলকে ভালো করো, তোমার সঙ্গে সাক্ষাতের দিনটিকে আমার সেরা দিনে পরিণত করো। ১৬

* হজরত আবু বাকরা রাদি. থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রত্যেক নামাজের পর নিম্নোক্ত দুআ পড়তেন-

اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوْذُ بِكَ مِنَ الْكُفْرِ وَالْفَقْرِ وَعَذَابِ الْقَبْرِ.

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নি আউযুবিকা মিনাল কুফরি ওয়াল ফাকরি ওয়া আযাবিল কাবরি।

অর্থ: হে আল্লাহ, কুফর, দারিদ্রতা ও কবরের আজাব থেকে তোমার কাছে পানাহ চাই । ১৭

*  হজরত ফাযালা বিন উবায়দুল্লাহ রাদি. থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-

إِذَا صَلَّى أَحَدُكُمْ ؛ فَلْيَبْدَأُ بِتَحْمِيدِ اللهِ وَالثَّنَاءِ عَلَيْهِ، ثُمَّ يُصَلِّي عَلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، ثُمَّ يَدْعُو بِمَا شَاءَ.

অর্থ: নামাজ শেষে তোমরা প্রথমে আল্লাহর প্রশংসা করো, এরপর গুণকীর্তন করো, নবির ওপর দরুদ পড়ো। এরপর তোমাদের যা কিছু চাওয়ার তা ২৬৪ তোমরা চাও।

ফজরের নামাজের পর আল্লাহর জিকির


দিনের বেলায় জিকিরের উত্তম সময় হল ফজরের নামাজের পর ।

*  হজরত আনাস রাদি. থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-

مَنْ صَلَّى الْفَجْرِ فِي جَمَاعَةٍ، ثُمَّ قَعَدَ يَذْكُرُ اللهَ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ، ثُمَّ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ كَانَتْ لَهُ كَأَجْرٍ حَجَةٍ وَعُمْرَةٍ، تَامَّةٍ تَامَّةٍ تَامَّةٍ.

অর্থ: যে ব্যক্তি জামাতের সাথে ফজরের নামাজ পড়ে সূর্যোদয় পর্যন্ত বসে বসে জিকির করে। এরপর দুই রাকাত নামাজ পড়ে, তার সওয়াব হবে পরিপূর্ণ এক হজ ও উমরার সমপরিমাণ । তিরমিজি রহ. বলেন, হাদিসটি হাসান। ১৮

*  হজরত আবু জর রাদি থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- যে ব্যক্তি ফজরের নামাজের পর কারো সাথে কথা বলার পূর্বে আপন জাগায় বসে নিম্নোক্ত দুআ দশবার পড়বে তার জন্য দশটি নেকি লেখা হবে, দশটি গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে এবং তার দশটি মর্যাদা বৃদ্ধি করা হবে। সে ঐদিন সর্বপ্রকার অনিষ্ট থেকে বেঁচে থাকবে। শয়তান থেকে নিরাপদে থাকবে। ঐ দিন শিরিক ছাড়া অন্য কেনো গুনাহ তার দ্বারা সংঘটিত হবে না। দুআটি নিম্নরূপ:

لا إلهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ يُحْيِ وَيُمِيْتُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيْرٍ

উচ্চারণ: লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা-শারিকালাহু, লাহুল মুলকু ওয়ালাহুল হামদু ইয়ুহয়ি ওয়াইয়ূ মিতু ওয়াহুওয়া আলা কুল্লি শাইয়িন কাদির।

অর্থ: আল্লাহ তাআলা ছাড়া কোন ইলাহ নেই, তার কোন অংশীদার নেই। সকল আধিপত্য তারই, তারই সকল প্রশংসা। তিনি জীবন-মরণ দান করেন। তিনি সর্ববিষয়ে ক্ষমতাবান।- ইমাম তিরমিজি রহ. বলেন, হাদিসটি হাসান। ১৯

* হজরত মুসলিম বিন হারিস তামিমি রাদি. থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে চুপিসারে বলেছেন- যখন তুমি মাগরিবের নামাজ থেকে ফারেগ হবে তখন এই দুআটি সাতবার পড়বে। যদি ঐ রাতে তোমার মৃত্যু হয় তাহলে এই দুআর বদৌলতে তোমার জন্য নিরাপত্তা থাকবে। ফজরের নামাজের পরও এই দুআ পড়বে। যদি ঐ দিন তোমার মৃত্যু হয় তাহলে এই দুআর বদৌলতে তোমার জন্য নিরাপত্তা থাকবে। দুআটি হল-

اللَّهُمَّ أَجِرْنِي مِنَ النَّارِ.

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা আজিরনি মিনান নার।

অর্থ: হে আল্লাহ, আপনি আমাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দান করুন। ২০ 

*  হজরত উম্মে সালামা রাদি. থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের নামাজের পর নিম্নোক্ত দুআ পড়তেন-

اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ عِلْمًا نَافِعًا، وَرِزْقًا طَيِّبًا، وَعَمَلًا مُتَقَبَّلًا.

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা ইলমান নাফিয়া ওয়া ওয়ারিযকান তায়্যিবা ওয়া  আমালান মুতাকাব্বালান, ।

অর্থ: হে আল্লাহ, আমি আপনার কাছে কামনা করছি— উপকারী ইলম, মাকবুল আমল ও পবিত্র রিযিক । ২১

*  হজরত সুহাইব রাদি. থেকে বর্ণিত- রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের পর তার ঠোঁট নাড়াতেন। আমি বললাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আপনি কী বলেন? রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমি এ দুআ পড়ি-

اللهم بك أحاول ، وَبِكَ أُصَاوِلُ ، وَبِكَ أُقَاتِلُ.

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা বিকা উহাবিলু ওয়াবিকা উসাবিলু, ওয়াবিকা উকাতিলু । 

অর্থ: হে আল্লাহ, আপনার নামেই শত্রুর মোকাবেলা করি, আপনার নামেই দুশমনের ওপর ঝাপিয়ে পড়ি এবং আপনার নামেই লড়াই করি । ২২

এ বিষয়ে আরো অনেক হাদিস রয়েছে। সামনে ‘দিবসের প্রথমভাগে পড়ার দুআ' নামক অধ্যায়ে বিস্তারিত আসছে। আবু মুহাম্মাদ রহ. তার “শরহুস সুন্নাহ” কিতাবে উল্লেখ করেছেন-

قَالَ عَلْقَمَةُ بْنِ قَيْسٍ: بَلَغَنَا أَنَّ الْأَرْضَ تَعُجُّ إلى اللَّهِ تَعَالَى مِنْ نَوْمَةِ الْعَالِمِ بَعْدَ صَلَاةِ الصُّبْحِ.

অর্থ: আলকামা রহ. বলেন, আমারা একথা শুনেছি, ফজরের পর কোন আলেম ঘুমালে জমিন আল্লাহর কাছে আর্তনাদ করে। ২৩


তথ্যসূত্রঃ
০১. সুনানে তিরমিজি: ৩৪৯৪, আমালুল ইয়াউম: ১০৮, নাসাঈ।
০২. সহিহ বুখারি: ৮৪১, সহিহ মুসলিম: ৫৮৩।
০৩. সহিহ মুসলিম: ৫৯১, সুনানে আবু দাউদ: ১৫১৩, সুনানে তিরমিজি: ৩০০, সুনানে নাসাঈ ৩/৬৮।
০৪. সহিহ বুখারি: ৮৪৪, সহিহ মুসলিম: ৫৯৩, সুনানে আবু দাউদ: ১৫০৫, সুনানে নাসাঈ ৩/৭০, আমালুল ইয়াউম: ১২৯, নাসাঈ।
০৫. সহিহ মুসলিম: ৫৯৪, সুনানে আবু দাউদ: ১৫০৬, সুনানে নাসাঈ ৩/৭৫, আমালুল ইয়াউম:
০৬. সহিহ বুখারি: ৮৪৩, সহিহ মুসলিম: ৫৯৫, সুনানে আবু দাউদ: ১৫০৪, মুয়াত্তা মালেক ১/২০৯। 
০৭. সহিহ মুসলিম: ৫৯৬, সুনানে তিরমিজি: ৩৪০৯, সুনানে নাসাঈ ৩/৭৫, আমালুল ইয়াউম: ১৫৬।
০৮. সহিহ মুসলিম: ৫৯৫ ।
০৯. সহিহ বুখারি: ৬৩৭৪, সুনানে তিরমিজি: ৩৫৬২, সুনানে নাসাঈ ৮/২৬৬, আমালুল ইয়াউম: ১৩২, নাসাঈ ।
১০. সুনানে আবু দাউদ: ৫০৬৫, সুনানে তিরমিজি: ২৯০৫, সুনানে নাসাঈ ৩/৭৪, সুনানে ইবনে মাজাহ: ৯২৬।
১১. সুনানে আবু দাউদ: ১৫৩২, সুনানে তিরমিজি: ২৯০৫, সুনানে নাসাঈ ৩/৬৮।
১২. সুনানে আবু দাউদ: ১৫২২, সুনানে নাসাঈ ৩/৫৩, মুসতাদরাকে হাকেম ১/২৭৩, মুসনাদে আহমাদ ৫/২৪৫, মাওয়ারিদুজ জামআন: ২৩৪৫, আমালুল ইয়াউম: ১০৯।
১৩. ইবনুস সুন্নি: ১১২। 
১৪. ইবনুস সুন্নি: ১১৬।
১৫. ইবনুস সুন্নি: ১১৯।
১৬. আমালুল ইয়াউম: ১২১, ইবনুস সুন্নি। 
১৭. আমালুল ইয়াউম: ১০৯, ইবনুস সুন্নি।
১৮. আমালুল ইয়াউম: ১১১, ইবনুস সুন্নি, সুনানে নাসাঈ ৩/৭৩, মুসনাদে আহমাদ ৫/৩৯ । 
১৯. সুনানে তিরিমিযি: ৩৪৭০, আমালুল ইয়াউম: ১২৭, নাসাঈ, মাওয়ারিদুজ জামআন: ২৩৪১। 
২০. সুনানে আবু দাউদ: ৫০৭৯, মাওয়ারিদুজ জামআন: ২৩৪৬।
২১. মুসনাদে আহমাদ: ৬/২৯৪, সুনানে ইবনে মাজাহ: ৯২৫, আমালুল ইয়াউম: ১১০, ইবনুস সুন্নি।
২২. আমালুল ইয়াউম: ১৭৭, ইবনুস সুন্নি।
২৩. শরহুস সুন্নাহ ৩/২২২।



****************************************
>>> Welcome, You are now on Mohammadia Foundation's Website. Please stay & Tune with us>>>

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

মোহাম্মদীয়া ফাউন্ডেশনের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url