//]]>

Win a Prize

Mohammadia Foundation https://www.mohammadiafoundationbd.com/2023/02/Ibne-kathir13.html

তাফসীরে ইবনে কাসীর - ১৩ || সূরা বাকারাহ - ৩ || কুরআনে সন্দেহের কোন কিছুই নেই || হিদায়াত কাদের জন্য? ||






সূরা বাকারাহ আয়াত-২

হিদায়াত, তাকওয়া ও মুত্তাকী বিষয়ে আলোচনা

ذٰلِکَ الۡکِتٰبُ لَا رَیۡبَ ۚۖۛ فِیۡهِ ۚۛ هُدًی لِّلۡمُتَّقِیۡنَ ۙ﴿۲
২। ইহা ঐ গ্রন্থ যার মধ্যে কোন সন্দেহ-সংশয়ের অবকাশ নেই; ধর্মভীরুদের জন্য এ গ্রন্থ পথ নির্দেশ ৷

কুরআনে সন্দেহের কোন কিছুই নেই

کِتٰبُ এর অর্থ কুরআনুল কারীম। رَیۡبَ এর অর্থ হচ্ছে সংশয় ও সন্দেহ । ইব্‌ন আব্বাস (রাঃ) ইব্‌ন মাসউদ (রাঃ) এবং আরও কয়েকজন সাহাবী (রাঃ) হতে এ অর্থ বর্ণিত হয়েছে। (তাবারী ১/২২৮) আবূ দারদা (রাঃ), ইব্‌ন আব্বাস (রাঃ), মুজাহিদ (রহঃ), সাঈদ ইব্‌ন যুবাইর (রহঃ), আবূ মালিক নাফি' (রহঃ), যিনি ইব্‌ন উমারের কৃতদাস, ‘আতা (রহঃ), আবুল আলীয়া (রহঃ), রাবী' ইব্‌ন আনাস (রহঃ), মুকাতিল ইব্‌ন হিব্বান (রহঃ), সুদ্দী (রহঃ), কাতাদাহ (রহঃ) এবং ইসমাঈল ইব্‌ন আবূ খালিদ (রহঃ) হতেও এটাই বর্ণিত আছে। আদী ইব্‌ন আবী হাতিম (রহঃ) বলেন যে, মুফাস্সিরগণের মধ্যে এতে কোন মতভেদ নেই। (ইব্‌ন আবী হাতিম ১/৩১) رَیۡبَ  শব্দটি আরাবদের কবিতায় অপবাদের অর্থেও এসেছে।
لَا رَیۡبَفِیۡهِ এর অর্থ হল এই যে, এই কুরআন আল্লাহর পক্ষ হতে অবতীর্ণ হওয়ার ব্যাপারে কোন সন্দেহের অবকাশ নেই। যেমন সূরা সাজদাহয় বলা হয়েছেঃ

المَ. تَنزِيلُ الْكِتَابِ لَا رَيْبَ فِيهِ مِن رَّبِّ الْعَلَمِينَ
আলিফ লাম মীম। এই কিতাব জগতসমূহের রবের নিকট হতে অবতীর্ণ। (সূরা সাজদাহ, ৩২ : ১-২) কেহ কেহ বলেছেন যে, এটা خَبَر হলেও نَهِىْ-এর অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। অর্থাৎ  لَا تَرْتَابُوْا فِيْهِ  ‘তোমরা এতে আদৌ সন্দেহ করো না।’ কোন কোন কারী لَا رَيْبَ-এর ওপরে وَقْف করে থাকেন এবং فِيْهِ هُدًى لِّلْمُتَّقِيْنَ-কে পৃথক বাক্য রূপে পাঠ করেন। কিন্তু  لَا رَیْبَ فِیْهِ-এর ওপর وَقْف করা বা না থামা খুবই উত্তম। কেননা এই একই বিষয় এভাবেই সূরাহ্ সাজদার আয়াতে উল্লেখ হয়েছে এবং এর মধ্যে তুলনামূলকভাবে فِيْهِ هُدًى-এর চেয়ে বেশি مُبَالَغَة হয়।

হিদায়াত কাদের জন্য?

এ স্থানে হিদায়াতকে মুক্তাকীনের সঙ্গে বিশিষ্ট করা হয়েছে। যেমন আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ

قُلْ هُوَ لِلَّذِينَ ءَامَنُواْ هُدًى وَشِفَاءٌ وَالَّذِينَ لَا يُؤْمِنُونَ فِي مَاذَانِهِمْ وَقَرٌ وَهُوَ عَلَيْهِمْ عَمِّى أُوْلَتِبِكَ يُنَادَوْنَ مِن مَكَانٍ بَعِيدٍ

বলঃ মু'মিনদের জন্য ইহা পথ নির্দেশ ও ব্যাধির প্রতিকার। কিন্তু যারা অবিশ্বাসী তাদের কর্ণে রয়েছে বধিরতা এবং কুরআন হবে তাদের জন্য অন্ধত্ব । তারা এমন যে, যেন তাদেরকে আহ্বান করা হয় বহু দূর হতে। (সূরা হা-মীম সাজদাহ, ৪১ : ৪৪) অন্যত্র রয়েছেঃ
وَنُنَزِّلُ مِنَ الْقُرْءَانِ مَا هُوَ شِفَاءٌ وَرَحْمَةٌ لِلْمُؤْمِنِينَ وَلَا يَزِيدُ الظَّالِمِينَ إِلَّا خَسَارًا

আমি অবতীর্ণ করি কুরআন, যা বিশ্বাসীদের জন্য সুচিকিৎসা ও দয়া, কিন্তু তা সীমা লংঘনকারীদের ক্ষতিই বৃদ্ধি করে। (সূরা ইসরাহ, ১৭ : ৮২) এ বিষয়ের আরও বহু আয়াত রয়েছে এবং এগুলির ভাবার্থ এই যে, যদিও কুরআন কারীম সকলের জন্যই হিদায়াত স্বরূপ, তথাপি শুধু সৎ লোকেরাই এর দ্বারা উপকার পেয়ে থাকে । যেমন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা বলেনঃ

يَنأيها النَّاسُ قَدْ جَاءَتْكُم مَّوْعِظَةٌ مِّن رَّبِّكُمْ وَشِفَاءٌ لِمَا فِي الصُّدُورِ وَهُدًى وَرَحْمَةٌ لِلْمُؤْمِنِينَ

(হে মানব জাতি!) তোমাদের কাছে তোমাদের রবের তরফ হতে এমন বিষয় সমাগত হয়েছে যা হচ্ছে নাসীহাত এবং অন্তরসমূহের সকল রোগের আরোগ্যকারী, আর মু'মিনদের জন্য ওটা পথ প্রদর্শক ও রাহমাত । (সূরা ইউনুস, ১০ : ৫৭)

ইব্‌ন আব্বাস (রাঃ) ও ইবন মাসউদ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, হিদায়াতের অর্থ হচ্ছে আলো ।

মুত্তাকী কারা? 

ইব্‌ন আব্বাস (রাঃ) বর্ণনা করেন যে, মুত্তাকীন তারাই যারা আল্লাহর উপর বিশ্বাস স্থাপন করে শির্ক হতে দূরে থাকেন এবং আল্লাহ তা'আলার নির্দেশাবলী মেনে চলেন। অন্য এক বর্ণনায় আছে যে, মুত্তাকীন তারাই যারা আল্লাহর শাস্তিকে ভয় করে হিদায়াতকে পরিত্যাগ করেননা এবং তাঁর রাহমাতের আশা রেখে তাঁর তরফ থেকে অবতীর্ণ কিতাবকে বিশ্বাস করে থাকেন। কাতাদাহ (রহঃ) বলেন যে, মুত্তাকীন তারাই যাদের সম্পর্কে আল্লাহ তা'আলা আলোচ্য আয়াতের পরে বলেন :

الَّذِیۡنَ یُؤۡمِنُوۡنَ بِالۡغَیۡبِ وَ یُقِیۡمُوۡنَ الصَّلٰوۃَ وَ مِمَّا رَزَقۡنٰهُمۡ یُنۡفِقُوۡنَ ۙ﴿۳

যারা অদৃশ্য বিষয়গুলিতে বিশ্বাস করে এবং যথা নিয়মে সালাত কায়েম করে, আর আমি তাদেরকে যে সব রি দিয়েছি তা থেকে ব্যয় করে। (সূরা বাকারাহ, ২ : ৩-৪)

ইমাম ইব্‌ন জারীর (রহঃ) বর্ণনা করেন যে, এসব গুণ মুত্তাকীনদের মধ্যে একত্রে জমা হয় । জামে' তিরমিযী ও সুনান ইব্‌ন মাজাহয় আতীয়াহ সা'দী (রহঃ) থেকে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন : ‘বান্দা প্রকৃত মুত্তাকী হতে পারেনা যে পর্যন্ত না সে ঐ সমুদয় জিনিস ছেড়ে দেয় যাতে কোন দোষ নেই এই ভয়ে যে, দোষের মধ্যে যেন না পড়ে। (তিরমিযী ৭/১৪৭, ইবন মাজাহ ২/১৪০৯)

হিদায়াত দুই ধরনের

কখনও কখনও হিদায়াতের অর্থ হয় অন্তরের মধ্যে ঈমানের স্থিতিশীলতা। বান্দার অন্তরে এই হিদায়াতের উপর মহান আল্লাহ ছাড়া আর কেহ ক্ষমতা রাখেনা। পবিত্র কুরআনে ঘোষণা করা হচ্ছেঃ

إِنَّكَ لَا تَهْدِي مَنْ أَحْبَبْتَ

তুমি যাকে ভালবাস, ইচ্ছা করলেই তাকে সৎ পথে আনতে পারবেনা। (সূরা কাসাস, ২৮ : ৫৬) আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা আরও বলেনঃ

 لَیۡسَ عَلَیۡکَ هُدٰىهُمۡ

তাদেরকে সুপথে আনার দায়িত্ব তোমার নয়। (সূরা বাকারাহ, ২ : ২৭২) অন্য স্থানে তিনি বলেনঃ

مَن يُضْلِلِ اللَّهُ فَلَا هَادِيَ لَهُ

যাদেরকে আল্লাহ বিপথগামী করেন, তাদের কোন পথ প্রদর্শক নেই। (সূরা আ'রাফ, ৭ : ১৮৬) অন্যত্র তিনি বলেনঃ

مَن يَهْدِ اللَّهُ فَهُوَ الْمُهْتَدِ وَمَن يُضْلِلْ فَلَن تَجِدَ لَهُ، وَلِيًّا مُرشِدًا
আল্লাহ যাকে সৎ পথে পরিচালিত করেন সে সৎ পথ প্রাপ্ত এবং তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন, তুমি কখনও তার কোন পথ প্রদর্শনকারী অভিভাবক পাবেনা। (সূরা কাহফ, ১৮ : ১৭)

কখনও কখনও হিদায়াতের অর্থ হয়ে থাকে সত্য, সত্যকে প্রকাশ করা এবং সত্য পথ প্রদর্শন করা। যেমন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা বলেনঃ

وَإِنَّكَ لَتَهْدِى إِلَى صِرَاطٍ مُّسْتَقِيمٍ

তুমি তো প্রদর্শন কর শুধু সরল পথ। (সূরা শূরা, ৪২ : ৫২) অন্যত্র আল্লাহ বলেনঃ

إِنَّمَا أَنتَ مُنذِرٌ وَلِكُلِّ قَوْمٍ هَادٍ

তুমি তো শুধুমাত্র ভয় প্রদর্শনকারী এবং প্রত্যেক সম্প্রদায়ের জন্য রয়েছে পথ প্রদর্শক। (সূরা রা'দ, ১৩ : ৭) পবিত্র কুরআনের অন্য স্থানে আছেঃ

وَأَمَّا ثَمُودُ فَهَدَيْنَهُمْ فَاسْتَحَبُّوا الْعَمَىٰ عَلَى أَهْدَى
আর সামুদ সম্প্রদায়ের ব্যাপার তো এই যে, আমি তাদেরকে পথ নির্দেশ করেছিলাম, কিন্তু তারা সৎ পথের পরিবর্তে ভ্রান্ত পথ অবলম্বন করেছিল। (সূরা হা-মীম সাজদাহ, ৪১ : ১৭) অন্য স্থানে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা বলেনঃ

وَهَدَيْنَهُ النَّجْدَينِ

আমি তাদেরকে দু'টি পথ দেখিয়েছি। (সূরা বালাদ, ৯০ : ১০)


তাকওয়া কী?

উমার ইবন খাত্তাব (রাঃ) উবাই ইব্‌ন কা'বকে (রাঃ) প্রশ্ন করেনঃ তাকওয়া কি?' তিনি উত্তরে বলেনঃ
‘কাঁটাযুক্ত দুর্গম পথে চলার আপনার কোন দিন সুযোগ ঘটেছে কি?' তিনি বলেনঃ ‘হ্যাঁ’ । তখন উবাই (রাঃ) বলেনঃ ‘সেখানে আপনি কি করেন? উমার (রাঃ) বলেন : ‘কাপড় ও শরীরকে কাঁটা হতে রক্ষা করার জন্য সতর্কতা অবলম্বন করি।' তখন উবাই (রাঃ) বলেনঃ تَقْوَى  ও ঐ রকমই নিজেকে রক্ষা করার নাম ৷





**************************************
Thank you for visiting the site. If you like the article, share it on social media to invite other Vines to the path of truth and justice. Click on OUR ACTION PLAN button to know about activities, goals and objectives of Mohammadia Foundation and to participate in the service of religion and humanity.
Almost all articles on this website are written in Bengali. But you can also read it in your language if you want. Click the “ভাষা বেছে নিন” button at the bottom of the website to read in your own language.



অন্যদের সাথে শেয়ার করুন

0 Comments

দয়া করে নীতিমালা মেনে মন্তব্য করুন ??

CLICK n WIN

নটিফিকেশন ও নোটিশ এরিয়া